নাপাক কাপড় পবিত্র করার পদ্ধতি-
নাপাক কাপড় পবিত্র করার পদ্ধতি-
১.
কাপড়ে যদি দৃশ্যমান নাপাকি লাগে, এমনভাবে যে নাপাকি দৃষ্টিগোচর হয়-তাহলে ঐ নাপাকি দূর করে দিলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। যদি একবার ধোয়ার মাধ্যমেই নাপাক দূর করা যায় তাতেও কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। তিন বার ধোয়া শর্ত নয়। অর্থাৎ মূল নাপাক দূর হলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। নাপাকী দূর হয়ে যাওয়ার পর যদি এর দাগ বা চিহ্ন বাকি থাকে (যা দূর করা কষ্টকর হয়) তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ ধরনের দাগ থাকার কারণে তা অপবিত্র গণ্য হবে না। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত-
হযরত খাওলা বিনতে ইয়াসার রাযি. রাসুল সঃ এর নিকট এসে বলেন-হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি মাত্র কাপড় আছে এবং তা পরিহিত অবস্থায় আমি হায়েযগ্রস্ত হই। তখন আমি কি করব? তিনি বলেন, তুমি পবিত্র হলে কাপড়টি ধুয়ে নাও, অতঃপর তা পরিধান করে নামায পড়। তিনি বলেন, যদি রক্তের দাগ দূরীভূত না হয়? তিনি বলেন, রক্ত ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট, এর চিহ্ন তোমার কোন ক্ষতি করবে না। (আবু দাউদ-৩
২. আর যদি নাপাকি অদৃশ্যমান হয়, যেমন কাপড়ে লেগে থাকা নাপাকির যদি কোনো আলাদা রং দৃশ্যমান না হয়, তাহলে কাপড় ভালোভাবে ধৌত করার মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যাবে। এমনভাবে ধৌত করবে, যাতে ধৌতকারীর মনে প্রবল ধারণা হয় যে, এখন কাপড় পবিত্র হয়ে গেছে। আর পবিত্র হওয়ার প্রবল ধারণা লাভ হতে পারে তিনবার ধৌত করার মাধ্যমে। রাসুল সঃ ইরশাদ করেন-
তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে, তখন সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢুকায়। কারণ সে জানেনা যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।" (সহীহ মুসলিম-২৭৮)
এমনিভাবে কাপড়ের উপর বেশি পরিমাণে পানি ঢেলেও পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা লাভ করা যায়।
৩. আর যদি কাপড় মোটা হয় এবং নাপাকি শোষণ করে ফেলে তাহলে তা পবিত্র করার জন্য তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে নিংড়াতে হবে। অথবা তার উপর দিয়ে বেশি পরিমাণ পানি প্রবাহিত করবে দীর্ঘ সময় ধরে তাহলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। (আল ফিকহুল হানাফী ফী সাউবিহিল জাদিদ ১/৫৮, আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৩৩)
মুফতি খাইরুল ইসলাম
সহজে বুঝার জন্য-
ক. পিরি*য়ডের র*ক্ত বিছানায় লেগে গেলে-
যদি পিরি-য়ডের র-ক্ত বিছানার চাদরে লেগে যায়, তাহলে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সেটি নাপাক (অশুদ্ধ) হবে। তবে আপনি যদি সেটি ধোয়ার চেষ্টা করে থাকেন এবং রক্তের দাগ কিছুটা থেকে যায় কিন্তু মূল অপবিত্র বস্তু (নাপাকি) উঠে যায়, তাহলে সেটি পবিত্র (তাহির) হয়ে যাবে।
আপনার করণীয়-
ধোয়ার পর যদি দাগ থেকে যায়: কোনো সমস্যা নেই, বিছানা পবিত্র থাকবে। আপনি সেখানে বসতে বা ঘুমাতে পারবে
যদি ভালোভাবে পরিষ্কার না হয়: যেখানে রক্ত লেগেছে, সেখানে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে বা পানি ঢেলে মুছে নিতে হবে। যদি ধোয়া সম্ভব না হয়: তাহলে শুকিয়ে
গেলে কাপড় ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিতে পারেন বা শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।
হাদিসে এসেছে-
উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযি.) বলেন:
আমাদের কোনো মহিলার পোশাকে যদি হায়েজের রক্ত লেগে যেত, তাহলে তিনি সেটিকে চুলকিয়ে ফেলে দিতেন, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিতেন এবং তারপর তা পরিধান করতেন।" (সহিহ বুখারি ২২
খ. কাপড়ে বী*র্য লেগে গেলে-
যদি বী*র্য শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, তাহলে খুটিয়ে ফেলে দিলে তা পবিত্র হয়ে যাবে। আর যদি সিক্ত থাকে, তাহলে বীর্য লাগা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু উক্ত অংশ ধৌত করার দ্বারাই বিছানা পবিত্র হয়ে য
অনুবাদ: আমার বিন মাইমুন রহঃ সুলাইমান বিন ইয়াসার
রাঃ কে বী-র্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন, "আমি রাসূল সাঃ এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে, কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকতো। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৩১, ২২৯)
আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথা-১-পায়খানা, ২-প্রশ্রাব, ৩-বমি, ৪-রক্ত, ৫-বীর্য। (সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮)
হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন-বীর্য সিক্ত থাকলে তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে ফেল। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৩৩, ৯২৮)
গ. বাচ্চা বিছানায় প্রসাব পায়খানা করে দিলে..
ফ্লোরে প্রস্রাব বা পায়খানা করলে পানি দিয়ে ধৌত করে পরিষ্কার করতে হবে। আর ল্যাপ, তোষক বা কম্বল যদি ধৌত করতে চায়, তাহলে একবার ধৌত করে রেখে দিবে, ঝরে পড়লে দ্বিতীয়বার ধৌত করে রেখে দিবে, এভাবে তিনবার করলে পবিত্র হবে, দ। আর না হয় অন্য কোন কাপড় বা জায়নামাজ এগুলোর উপর দিয়ে নামাজ পড়া যাবে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment